সাজানো মামলা থেকে বাঁশখালী নিউজের সম্পাদক সহ ৫ জনের খালাস


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউপির রায়ছটা গ্রামের বাসিন্দা জনৈক ছগির আহম্মদের স্ত্রী'র রাজু আক্তার এর বাঁশখালী আদালতে দায়ের করা সাজানো মামলায় খালাস পেয়েছেন বাঁশখালী নিউজ এর সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মনছুর আলম সহ একই এলাকার শওকত আলী, আবু সালেক, জান্নাত আরা বেগম ও শারমিন আক্তার।

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সাল) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঈনুল ইসলাম এর আদালতে এ আদেশ দেন বলে জানান তাদের আইনজীবী মোঃ ওমর ফারুক। মোঃ মনছুর আলম বাঁশখালী উপজেলার রায়ছটা গ্রামের বাসিন্দা হলেও দেশের পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরেই বসবাস করেন। কক্সবাজারে তার নিজস্ব এম আলম আইটি সার্ভিস নামীয় একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার প্রকাশিত 'পরিকল্পিত বার্তা' নামীয় একটি জাতীয় অনলাইনও রয়েছে। এছাড়াও জনপ্রিয় অনলাইন 'কক্সবাজার কন্ঠ' সহ বেশ কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমের আইটি'র দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি একটি জনপ্রিয় সামাজিক সংগঠন 'পরিকল্পিত কক্সবাজার আন্দোলন' এর সমন্বয়ক (আইটি) হিসাবে দায়িত্বে রয়েছেন। সে কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কক্সবাজার সরকারী কলেজ এর প্রাক্তন ছাত্র। কলেজ জীবনে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হলেও বর্তমানে তিনি সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত রয়েছেন।

জানা যায়, বিগত ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর রাত ৮ টার দিকে বাঁশখালী থানার এসআই মোঃ ফারুক তার তদন্তাধিন একটি নারী শিশু মামলার আসামী গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্য রাজু আক্তারের বাড়ি ঘরে অভিযান চালায়। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বাঁশখালী নিউজের সম্পাদক মোঃ মনছুর আলমকে সহ ৫ জনকে আসামী করে বাঁশখালী আদালতে রাজু আক্তার বাদী হয়ে বিগত ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর সাজানো এই সিআর মামলাটি দায়ের করেন। পরে মামলাটি বাঁশখালী উপজেলার সাবেক শিক্ষা অফিসার কেএম মোস্তাক আহমেদ সরেজমিনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত না করে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে একটি মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেন।

অ্যাডভোকেট মোঃ ওমর ফারুক জানান, মোঃ মনছুর আলম সহ শওকত আলী, আবু সালেক, জান্নাত আরা বেগম ও শারমিন আক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত ফৌঃ কাঃ বিঃ ২৪৭ ধারা মোতাবেক তাদেরকে এ মামলা থেকে খালাস দিয়েছেন।

মোঃ মনছুর আলমের পরিবারের দাবী, বিগত ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর তার বন্ধু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মোহাব্বত আলী'র ভাগনী জোসনা আক্তার অপহরণ হয়ে গেলে মনছুর বাঁশখালী থানা পুলিশকে মেয়েটি উদ্ধারে সহযোগিতা করেন এবং অপহরণকারীদের মামলা নিতে চাপ সৃষ্টি করেন। পরে এ বিষয়ে বাঁশখালী থানায় রাজু আক্তারের স্বামী ছগির আহম্মদ সহ তাদের পরিবারের বেশ কয়েকজনকে আসামী করে সৈনিক মোহাব্বতের বোন বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় একটি নারী শিশু মামলা দায়ের করেন। এখানে মনছুরের সহযোগিতা থাকায় ঐ সাজানো সিআর কাউন্টার মামলায় মনছুরকেও আসামী করেন। আমাদের জানা মতে, মনছুর কারো ক্ষতি করে নাই বরং উপকার করতে গিয়ে সে এত হয়রানির শিকার হয়েছে। এছাড়াও পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মনছুর সহ তার বন্ধু সৈনিক মোহাব্বত এর বিরুদ্ধে আরও একটি মিথ্যা সাজানো নারী শিশু মামলা চট্টগ্রাম নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলায় মনছুর ১ মাস ২১ দিন কারাগারে ছিলেন। মামলাটি করান স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা মোজাম্মেল হক সিকদার। তিনি ৯ নম্বর পূর্ব রায়ছটা গ্রামের শিকদার বাড়ির আবু আহমদের ছেলে।

পরিবার আরও জানায়, এই ঘটনার পর সৈনিক মোহাব্বত ছুটিতে বাড়ি থাকলেও দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে ক্যান্টনমেন্টে ফিরে যান। পরে জানা যায়, একই মামলায় তাকেও আসামি করা হয়েছে।

তার বাবা বলেন, “আমার ছেলে কবে এসব থেকে মুক্ত হবে এই আশায় থাকি। সবসময় তাকে নিয়ে আমার চিন্তা হয়। তার পেছনে শত্রুর অভাব নেই। ছেলেকে ঝামেলা গুলো শেষ না হওয়ার আগে গ্রামে যেতে নিষেধ করলেও, তার গ্রাম ভাল লাগে।”

মনছুর বলেন, “আমি কারো ক্ষতি করিনি। আমি সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই, আর এটাই হয়তো আমার বিপদের কারণ। আমরা যদি অসহায় মানুষের পাশে না দাঁড়াই, তাহলে তাদের জন্য কে দাঁড়াবে? প্রভাবশালী লোকদের অন্যায় কাজে বাধা দেওয়ার ফলেই তারা প্রতিশোধ নিচ্ছে। কিন্তু আমি এসব ভয় পেয়ে থেমে যাব না। আমি যদি ভালো কাজের জন্য বিপদে পড়ি, তাহলে সেটি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম। আমি এখন যতোই মামলা ও হামলার শিকার হই না কেন, কাপুরুষের মতো লুকিয়ে থাকব না। যতদিন বেঁচে আছি, আমি সাহস নিয়ে মোকাবিলা করেই চলব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ